সেনেগালের বিপক্ষে ফ্রান্সের ৩-১ গোলের জয়ে জোড়া গোল করেছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। তবে এই দুই গোল কেবল দলকে জয়ই এনে দেয়নি, ২৭ বছর বয়সী এই তারকাকে জায়গা করে দিয়েছে ফুটবল ইতিহাসের বিশেষ এক উচ্চতায়। জোড়া আঘাতে তিনি হয়েছেন ফ্রান্সের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা, একই সঙ্গে বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায় উঠে এসেছেন তৃতীয় স্থানে।
বুধবার (১৭ জুন) নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ‘আই’ গ্রুপের ম্যাচটির প্রথমার্ধে সেনেগালের শক্ত প্রতিরোধে আটকে ছিল ফ্রান্স। তবে ৬৬তম মিনিটে মাইকেল ওলিসের নিখুঁত থ্রু পাস ধরে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন এমবাপ্পে। এরপর যোগ করা সময়ের অষ্টম মিনিটে প্রায় ৩০ গজ দূর থেকে দুর্দান্ত এক শটে জাল কাঁপিয়ে নিজের দ্বিতীয় ও দলের তৃতীয় গোলটি করেন তিনি। অনেকের চোখে সেটিই এখন পর্যন্ত চলমান বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা গোল।
এই জোড়া গোলের সুবাদে জাতীয় দলের জার্সিতে এমবাপ্পের গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৮। এর মধ্য দিয়ে তিনি পেছনে ফেলেছেন সাবেক ফরাসি স্ট্রাইকার অলিভিয়ে জিরুকে (৫৬) এবং এককভাবে ফ্রান্সের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে বসেছেন।
শুধু জাতীয় দলের রেকর্ডই নয়, বিশ্বকাপের ইতিহাসেও নিজের অবস্থান আরও উঁচুতে নিয়ে গেছেন রিয়াল মাদ্রিদের এই ফরোয়ার্ড। সেনেগালের বিপক্ষে দুই গোল করে তার বিশ্বকাপ গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৪-তে।
এর ফলে তিনি জার্মান কিংবদন্তি গার্ড মুলারের সমান গোল করলেও ম্যাচ শেষে বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায় যৌথভাবে তৃতীয় স্থানে উঠে এসেছেন। তার সামনে এখন আছেন শুধু ব্রাজিলের রোনালদো (১৫) এবং জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোসে (১৬)।
ম্যাচটি শুরুর আগে বিশ্বকাপে এমবাপ্পের গোল ছিল ১২টি। সে অবস্থানে তিনি ব্রাজিল কিংবদন্তি পেলের সঙ্গে যৌথভাবে ছিলেন এবং পেছনে ফেলেছেন আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসি ও ফ্রান্সের আরেক কিংবদন্তি জ্যুস্ত ফঁতেনকে। সেনেগালের বিপক্ষে জোড়া গোল করে তিনি এক লাফে সবার ওপরে উঠে যান।জ্যুস্ত ফঁতেনকে পেছনে ফেলার মাধ্যমে তিনি আরেকটি কীর্তি অর্জন করেছেন। ৬৮ বছরের পুরনো রেকর্ড ভেঙে বিশ্বকাপে ফ্রান্সের হয়ে সর্বোচ্চ গোলদাতা বনে গেছেন তিনি।
এমবাপ্পের বিশ্বকাপ গোলযাত্রাও দারুণ ধারাবাহিক। ২০১৮ সালে রাশিয়া বিশ্বকাপে করেছিলেন ৪ গোল, ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ৮ গোল করে জিতেছিলেন গোল্ডেন বুট। সেই আসরের ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করে ইতিহাসও গড়েছিলেন তিনি। বিশ্বকাপ ফাইনালে জিওফ হার্স্টের পর দ্বিতীয় ফুটবলার হিসেবে তিন গোল করার কীর্তি ছিল সেটি। আর ২০২৬ বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই যোগ করলেন আরও দুই গোল।
বিশ্বকাপের তিনটি আসরেই গোল করার বিরল ধারাবাহিকতা ধরে রাখা এমবাপ্পে এখন শুধু ফ্রান্সের নয়, বিশ্ব ফুটবলেরও অন্যতম বড় রেকর্ড শিকারি। সেনেগালের বিপক্ষে জোড়া গোলের রাতটি তাই তার ক্যারিয়ারের আরেকটি স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে থাকল।