কৃষি

বর্ষার বৃষ্টিধারায় ফুলে-ফুলে রঙিন হয়ে ওঠে প্রকৃতি

বর্ষার বৃষ্টিধারায় ফুলে-ফুলে রঙিন হয়ে ওঠে প্রকৃতি

ঋতুচক্রের নিয়মে এখন বর্ষার সময়। আষাঢ়-শ্রাবণের টানা বৃষ্টিতে প্রকৃতি ফিরে পায় নতুন প্রাণ। বৃষ্টির ছোঁয়ায় ধুলোমাখা গাছপালা, মাঠ-ঘাট ও জনপদ হয়ে ওঠে সজীব ও সতেজ। সবুজের এই বিস্তৃত আবরণকে আরও মনোমুগ্ধকর করে তোলে নানা রঙের ফুলের সমারোহ। সাদা, লাল, নীল কিংবা বেগুনি রঙের ফুলে বর্ষার প্রকৃতি যেন পায় ভিন্ন এক সৌন্দর্য।

বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে বর্ষার বিশেষ আবেদন রয়েছে। কবি-সাহিত্যিকদের সৃষ্টিতেও বারবার উঠে এসেছে এ ঋতুর সৌন্দর্য। ঝরঝর বৃষ্টির শব্দ, ভেজা মাটির সোঁদা গন্ধ আর ফুলের মিষ্টি সুবাস মিলিয়ে বর্ষা এনে দেয় এক অনন্য অনুভূতি।

বর্ষা এলেই প্রকৃতির বুকে সবার আগে চোখে পড়ে কদম ফুল। গোলাকার আকৃতির এই ফুলকে অনেকেই বর্ষার প্রতীক হিসেবে মনে করেন। ছোট ছোট অসংখ্য পাপড়ির সমন্বয়ে গড়ে ওঠা কদম চারপাশে ছড়িয়ে দেয় সৌন্দর্যের মুগ্ধতা। যেন কদম ছাড়া বর্ষার ছবি পূর্ণতা পায় না।

রংপুরের পায়রাবন্দে অবস্থিত বেগম রোকেয়া স্মৃতিকেন্দ্র এবং নগরীর বিভিন্ন সড়ক ও উদ্যান এলাকায় এখন ফুটে আছে কলাবতী, লিলি, স্পাইডার লিলি, সর্পগন্ধা, উলটচণ্ডাল, উলটকম্বল ও নিশিন্দাসহ নানা প্রজাতির ফুল। বর্ষার আর্দ্র পরিবেশে এসব ফুলের রূপ ও সুবাস প্রকৃতিকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলেছে।

বেগম রোকেয়া স্মৃতিকেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও কৃষিবিদ আবিদ করিম মুন্নার ভাষ্য, বাংলাদেশের প্রকৃতিতে বর্ষা সবচেয়ে নান্দনিক ঋতুগুলোর একটি। এ সময় হিজল, চালতা, শাপলা, শালুক, বড়নখা, চন্দ্রমালা ও কচুরিপানার মতো জলজ ফুলও প্রকৃতিকে রঙিন করে তোলে। এর মধ্যে কয়েকটি উদ্ভিদের রয়েছে ঔষধি গুণাগুণও।

তিনি জানান, জারুলের সঙ্গে সাদৃশ্য থাকায় অনেকেই ক্রেপ মার্টেল বা ফুরুস ফুলকে চেরি ফুল বলে ভুল করেন। এছাড়া নাগলিঙ্গম, হাসনাহেনা, নিশিপদ্ম, বাওবাব, জুঁই, চামেলি, হংসলতা, দোলনচাঁপা ও সুলতান চাঁপার মতো অসংখ্য ফুল বর্ষার সৌন্দর্যকে আরও সমৃদ্ধ করে।

বর্ষা কেবল বৃষ্টির ঋতুই নয়, এটি ফুলেরও ঋতু। সবুজ প্রকৃতির বুকজুড়ে রঙিন ফুলের উপস্থিতি যেন জানান দেয়, বাংলার প্রকৃতিতে সৌন্দর্যের কোনো ঘাটতি নেই। ভেজা বাতাসে দুলতে থাকা ফুলগুলোই যেন বর্ষার সবচেয়ে মোহনীয় অলংকার।

সম্পর্কিত খবর

লিঙ্ক কপি হয়েছে!